কুমিল্লায় ‘ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে গেল ২২ কিশোর; অভিযানে মোট আটক ৬২৪
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক কয়েকজন হট্টগোল করে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে বের হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করে পুলিশ। রাত ১০টার দিকে থানার একটি কক্ষে রাখা কিশোরদের একাংশ 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিয়ে থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি; যাচাই-বাছাই শেষে ২২ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জন কিশোরকে আটক করে দাউদকান্দি মডেল থানায় আনা হয়। অভিভাবকদের দাবি, আটককৃতদের বেশিরভাগেরই কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেল থেকেই আটক কিশোরদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন থানার মূল ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে তীব্র ভিড় ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, থানার ভেতরে একটি কক্ষে আটকে রাখা কিশোরদের কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে টেবিল ও দরজা ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসে এবং বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে মিলে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইক নিয়ে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, 'তেমন কিছু হয়নি। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের স্বজনরা এক সঙ্গে আসলে একটু ভিড় হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৬ জনকে যাছাই বাছাই চলছে।'
এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানেও অভিযান চালানো হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের আগের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
