কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ রামপালের এক ইউনিট, বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে
কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট আজ (১৩ সেপ্টেম্বর) বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে রামপাল প্ল্যান্টের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এই বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১,১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
অন্যদিকে, গত বুধবার গভীর রাতে কারিগরি জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদানি পাওয়ারের দ্বিতীয় ইউনিটটি আজ দুপুর বারোটার দিকে পুনরায় বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে।
বিপিডিবি ও পিজিসিবির তথ্যমতে, আজ দিনের শুরুর দিকে আদানি থেকে সর্ব্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে দুপুরের পর ২টার দিকে দুটি ইউনিট মিলিয়ে যৌথ সরবরাহ ১,০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে। আজ বিকেলের দিকে এই সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ঝড়ের কারণে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় কয়লা সংকটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে প্রায় এক মাস ধরে কম ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছিল আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট।
গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ১,২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
গত বুধবার রাতে আদানির প্ল্যান্টটির মোট উৎপাদন ১,৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে মোট উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের এই কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটে মোট ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
২০১৭ সালে বিপিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর করে আদানি। চহিদা অনুযায়ী এর আগে বাংলাদেশে ১,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
বিপিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আদানির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পর সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি রামপালের বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি দ্রুত পুনরায় চালু ও উৎপাদনে ফেরাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে।
