ঢাকায় বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে ‘স্মার্ট ইউটিলিটি ব্যবস্থা’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবার লাইন বসানো বা মেরামতের জন্য ঢাকার রাস্তা বারবার খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তি থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সমন্বিত 'স্মার্ট ইউটিলিটি ব্যবস্থা' গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ঢাকা মহানগর ও এর আশপাশের এলাকার সব উন্নয়নকাজ সমন্বিতভাবে করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, এখন পানির লাইনের জন্য একবার রাস্তা খুঁড়তে হয়, বিদ্যুতের জন্য আবার খুঁড়তে হয়, গ্যাসের জন্যও একইভাবে রাস্তা কাটতে হয়। এই বারবার খোঁড়াখুঁড়ির প্রয়োজনীয়তা কীভাবে কমানো যায়, সেই বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে, যেখানে বিভিন্ন ইউটিলিটি একই কাঠামোর মধ্যে থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঢাকনা খুলে সংশ্লিষ্ট লাইনে কাজ করা যাবে। এতে একই রাস্তা একেক সংস্থার জন্য একাধিকবার কাটার প্রয়োজন কমবে।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে না। সরকার কাজ শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, একদিন ঢাকার উন্নয়ন কাজ ও ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা এমন একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি ঢাকার চলমান উন্নয়নকাজেও তাৎক্ষণিক সমন্বয় জোরদার করছে সরকার। একটি সংস্থা রাস্তা খুঁড়ে কাজ শেষ করার পর আরেকটি সংস্থা যেন একই জায়গায় আবার রাস্তা না কাটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় করা হবে। প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা পর্যায়েও সভা করার জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া, ভোগান্তি কমানো এবং সমন্বিতভাবে উন্নয়নকাজ শেষ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অধীনে বর্তমানে যেসব উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে, সেগুলো সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ এবং ক্ষেত্রবিশেষে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের জন্যও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে মেট্রোরেল, সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসাসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় উন্নয়নকাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব কাজ যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় এবং একটি সংস্থা কাজ করার পর আরেকটি সংস্থাকে একই জায়গায় নতুন করে কাজ করতে না হয়, সেজন্য এই সমন্বয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জনদুর্ভোগ প্রকট হয়। একটি সংস্থা নির্মাণকাজ করার পর রাস্তা মেরামত করে চলে গেলে আবার অন্য একটি সংস্থা একই জায়গায় কাজ করতে আসে। অথচ আগেই সমন্বয় করা গেলে একই সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাজ করা সম্ভব। সরকার এখন সেই সমন্বয় নিশ্চিত করতে চাইছে।
ঢাকার যানজট কমাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বা এআইয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে নগরবাসী স্বস্তি পাচ্ছে এবং যান চলাচলে একটি শৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
যানজট কমাতে বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানান্তরের মধ্যবর্তী সময়ে বা গ্যাপ পিরিয়ডে বাসগুলো কোথায় থাকবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ব্যয় ও সময় কমানো এবং জনদুর্ভোগ কমিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়াই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে একই জায়গায় বারবার কাজ করার প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ও কমবে এবং কাজ শেষ করতেও কম সময় লাগবে।
