উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে ৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের ১২ মামলা
উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফীনসহ ছয় কর্মকর্তা এবং ১১টি প্রতিষ্ঠানের ২১ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়– কোনো আবেদন, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র ও জামানত ছাড়াই ঋণ বিতরণ করে উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৫ কোটি ৭৯ লাখ ৯২ হাজার ৯২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিনিয়র অফিসার মিঠু কুমার সাহার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আরও ১৩ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব ঋণ পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়নি এবং বোর্ডের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, পরস্পর যোগসাজশ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উত্তরা ফাইন্যান্সের ছয় সাবেক কর্মকর্তাকে এসব মামলার কমন আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন–প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শামসুল আরেফীন, সাবেক সিনিয়র অফিসার মিঠু কুমার সাহা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মাদ মাইন উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আরিফুজ্জামান, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম কামরুজ্জামান এবং সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার রাফিউল ইসলাম।
এ ছাড়া ঋণগ্রহীতা ১১টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরও আসামি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাক্স সোয়েটার বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মনিরুজ্জামান এবং পরিচালক জেসন সেলিনা জামান, কাজী সিরাজুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ রয়েছেন।
সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেড ও সাজিদ মাহমুদ কটন মিলস লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন এবং পরিচালক মোসাম্মৎ রোকেয়া বেগম ও শামীমা নারগিসকে আসামি করা হয়েছে।
জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক আযয়া সেলিম, জিনাত সেলিম, এনাম মল্লিক ও নাফিজা সেলিমের বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বেইজ টেক্সটাইল লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার শাহাদাত ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান শিবলীও দুদকের মামলার আসামি।
এ ছাড়া প্যান এশিয়া ট্রেড হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফাইজুল হক, রকিবুল আনোয়ার হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ঢাকা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার এবং তার স্ত্রী নাফিজা আক্তার আনোয়ারের বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
