মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগে ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান
মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের নামে কেরোসিন ছিটানো এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ দখলদারি ও চাঁদাবাজিসহ শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
জানা গেছে, ঠিকাদারি চক্র, ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তর সিটি করপোরেশনে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে অতীতে কালো তালিকাভুক্ত 'দি লিমিট অ্যাগ্রো' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা পরে নাম পরিবর্তন করে 'ফরওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল' নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গত ২ বছরে ডিএসসিসি থেকে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরবরাহ করা কীটনাশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় মান ঠিক রাখা হলেও মাঠপর্যায়ে মশা নিধনের নামে কীটনাশকের পরিবর্তে কেবল কেরোসিন ছিটানো হয়েছে।
এদিকে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০-২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও সরেজমিন তদন্তের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাই করে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
