এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, 'এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড দেবেন। ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়া হবে।'
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রযুক্তির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কলেবর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদেশ থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদও দেশে আনা সম্ভব হবে।
দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কলেবরও বাড়ানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার থাকাকালে ২০০৩ সালে দেশের চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) যাত্রা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অ্যালামনাই কার্যক্রম আরও উন্নত করতে হবে। বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ মেধার কারণে পিছিয়ে নেই; বরং যথাযথ প্রচেষ্টা এবং সিস্টেমের সঠিক প্রয়োগের অভাবেই পিছিয়ে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের, মা-বাবা, দেশ তথা পুরো জাতির জন্য অবদান রাখতে হলে সিরিয়াসভাবে লেখাপড়া করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার প্রতি মনোনিবেশ করে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের মতো একই উপাদান দিয়ে সৃষ্টিকর্তা বাংলাদেশের মানুষকেও সৃষ্টি করেছেন। তাই নিজেদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি লেখাপড়া করতে হবে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে। এটি আমাদের জটিলতার কারণে হচ্ছে। এসব বিষয় আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। বিশাল এই এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা নেওয়া এবং সামগ্রিক বিষয়গুলো কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার সময়োপযোগী, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ও গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, বর্তমানে এআইয়ের যুগ। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। যুগের পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাজাহান আলী ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী প্রীতি সমাবেশ, আনন্দ র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
