মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীসহ ২ জনের সাক্ষ্য
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীসহ দুই জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। তাদের জেরা শেষে আদালত আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।
সাক্ষীরা হলেন- সোহাগের দোকানের কর্মচারী মো. আমির হোসেন (প্রত্যক্ষদর্শী) এবং পাশের দোকানী মিঠুন হাওলাদার।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিল্লাল হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট এই মামলার বাদী মঞ্জুয়ারা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও ৮ জন পলাতক রয়েছে। এছাড়া তিন আসামি জামিনে রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।
এছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এই কর্মকর্তা। তবে মামলাটিতে তদন্তে ত্রুটি থাকায় পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
চলতি বছরের ১০ মে তদন্ত করে আবারও ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।
গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।
