রাজধানীর বাজারে তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সবজি-ডিম ও মাছের দামও চড়া
রাজধানীর বাজারে একদিকে বাড়ছে চিনি ও খোলা ভোজ্যতেলের দাম, অন্যদিকে বাজারে কমেছে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ। সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও বেশ কয়েকটি সবজি এখনো কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আর মাছ ও ডিমের বাজার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে।
লালবাগের মুদি দোকানি মিরাজ বলেন, 'কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ডিলাররা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। সামনে প্যাকেটজাত চিনির দামও বাড়তে পারে বলে মনে হচ্ছে।'
এদিকে বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো বাড়েনি, প্রতি লিটার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা তেলের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ময়দার দামও বেড়েছে। খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি
গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে খুব একটা স্বস্তি নেই। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, বেগুন ও টমেটোর মতো কয়েকটির দাম এখনো চড়া।
আজকের বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া পটল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা ছিল। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে মরিচের কেজি এখন ১০০ থেকে ১১০ টাকা।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা কামরুজ্জামান তমাল বলেন, 'সবজির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও চার-পাঁচটি সবজি এখনো ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। বাকিগুলো ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে নামছে না।'
ডিম ও মুরগির বাজার
ডিমের দাম এখনো কমেনি। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারেও খুব একটা পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।
মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, 'গত সপ্তাহের তুলনায় দাম তেমন বদলায়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম কমার সম্ভাবনা আছে।'
মাছের বাজারে হাহাকার
মাছের বাজারে ক্রেতাদের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই। ২৫০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বাজারে তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ও কাতলা আকারভেদে ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা আবু দাউদ আক্ষেপ করে বলেন, 'মাছ কিনতে এসে অবাক হতে হয়। তেলাপিয়াও যদি আড়াইশ টাকা কেজি হয়, তবে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বাজার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, 'মাছের দাম প্রায় স্থির। একদিন ২০-৩০ টাকা কমলে পরদিনই আবার বেড়ে যায়।' অন্যদিকে ইলিশের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
