টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে সবজি, ডিম, চাল ও মাছের দাম
টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে সবজি, মাছ, মুরগি, ডিম ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো।
গতকাল (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউ মার্কেট ও হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বৃষ্টি হলেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টি শেষ হলেও সেই দাম আর কমে না। এখন অল্প কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।'
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মাঠ থেকে পণ্য সংগ্রহ এবং ঢাকায় পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরবরাহ কমে গেছে এবং খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৮০-১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকায়।
ডিমেরও নতুন করে দাম বেড়েছে। ফার্মের সাদা ডিম ডজনপ্রতি ১২৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি।
নিউ মার্কেটের ডিম বিক্রেতা শাহিন মিয়া বলেন, 'খামার থেকেই বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।'
চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নাজিরশাইল ও মিনিকেটসহ সরু চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭২-৮৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০-৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে উভয় ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২ টাকা কম ছিল।
কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, 'গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিলগেটে চালের দামের ওঠানামা চলছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব অনিবার্যভাবেই খুচরা বাজারে পড়ে।'
সবজির মধ্যে সাধারণ মানের বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০-৮০ টাকা। করলা ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০-৯০ টাকা এবং বরবটি ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে শসার দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকায়।
তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, পটোল ৫০-৬০, কাঁচা পেঁপে ৩০-৫০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৫০-৮০ টাকা ও চালকুমড়া প্রতিটি ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক খেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। আবার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় সময়মতো পণ্য ঢাকায় আনা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।'
ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে মাছের বাজারেও। বড় রুই কেজিপ্রতি ৪৫০-৫৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৪০০-৪৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৬০ টাকা, পাবদা ৩২০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৮০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-৩৫০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০-১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের বাজারও চড়া। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২,০০০-২,২০০ টাকা; আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২,৩০০-২,৪০০ টাকা।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার কেজিপ্রতি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১,১০০-১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
