হালদায় তৃতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ
চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে তৃতীয় দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে নদীর বিভিন্ন অংশে জেলেরা অল্প পরিমাণে এই নমুনা ডিম সংগ্রহ করেছেন। তবে এবারের ডিমের মোট উৎপাদনের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় জেলেদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে নদীতে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি নৌকা ডিম সংগ্রহে নামে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে মাত্র এক থেকে দুই কেজির মতো ডিম পাওয়া গেছে, যা মূলত 'নমুনা ডিম' হিসেবেই ধরা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের প্রজননের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া টিবিএসকে বলেন, "হালদা নদীতে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি নৌকা মাছের ডিম সংগ্রহে অংশ নেয়। তবে প্রত্যেক নৌকায় খুবই অল্প পরিমাণে—প্রায় এক থেকে দুই কেজির মতো ডিম পাওয়া গেছে, যা মূলত নমুনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ পরিমাণের ভিত্তিতে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও হিসাব করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নৌকাগুলোর পাওয়া ডিম মূলত স্বল্প পরিমাণে ছিল।"
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ড. কিবরিয়া বলেন, "আগে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ডিমের পরিমাণ কম ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সংগ্রহকারীরাও প্রস্তুত ছিলেন না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনুকূল না থাকলেও আগামী ২৮ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হলে ডিম ছাড়ার আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।" সব মিলিয়ে তিনি মনে করেন, এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল না হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হালদায় আবারও প্রজনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা ও গবেষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে উৎপাদিত পোনা মাছ (ফ্রাই) জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার অবদান রাখতে পারে। ৩০ এপ্রিল পূর্ণিমার পর তৃতীয় জোয়ার-ভাটার ধাপে প্রথমবার মা মাছ ডিম ছেড়েছিল। এরপর বিভিন্ন ধাপে নদীর একাধিক স্থানে ডিম সংগ্রহ করা হয়।
চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ জন সংগ্রাহক ২০৮ থেকে ২৫০টি নৌকা ব্যবহার করে হালদা থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন, যা পরে হ্যাচারিতে নিয়ে পোনা উৎপাদন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে ১৫৫ কেজি পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এসব পোনা বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যার প্রতি কেজির দাম প্রায় ১.৪ থেকে ১.৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। গবেষকদের মতে, পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে আরও ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
