জুলাইয়ে ১০৪ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬০: র্যাব
চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র।'
র্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা চলবে
র্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)' নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এই নতুন বাহিনী কার্যক্রম কীভাবে চলছে জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, 'নতুন বাহিনী কীভাবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে নতুন একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।'
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তও হয়েছে। বর্তমানে যেসব বিষয় বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।'
র্যাব বিলুপ্ত হয়ে নতুন বাহিনী গঠিত হলে বিচারাধীন মামলাগুলোর কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রস্তাবিত নতুন আইনের খসড়ায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইনটির খসড়া জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেখানে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।'
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'খসড়ার শেষ দিকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নতুন আইন প্রণীত হলেও র্যাবের আওতায় যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী চলমান থাকবে। অর্থাৎ, র্যাব বিলুপ্ত বা নতুন বাহিনী গঠিত হওয়ার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে না।'
র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, 'জুলাই আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক শহিদুর রহমান জাতির সামনে এসে র্যাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে বাহিনী হিসেবে জনগণের প্রত্যাশিত ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই করা হয়েছে।'
