চাঁদার জন্য ভবনে হামলা-বিস্ফোরণের মামলায় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন আরও ৫ দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদার জন্য হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় 'সন্ত্রাসী' মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এ ঘটনায় নগরীর হাটহাজারী থানায় মামলা করেন তিনি৷
এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর থেকে তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী এবং তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পরদিন ইমনকে ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের সঙ্গে অন্তত ৫০ জন শ্যুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির জন্য ইমন নিয়মিত ফোন করতেন বলেও পুলিশের দাবি।
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তার বাবা মো. মুসা ওমানে প্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান।
স্থানীয় ও ক্রিকেট কোচদের তথ্যমতে, স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নেন। চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে খেলেছেন এবং কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতেন। সে সময় তিনি বামহাতি চায়না ম্যান স্পিনার হিসেবে প্রশিক্ষণ মাঠে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে অপরাধচক্রে যুক্ত হন ইমন। বড় সাজ্জাদের সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন।
