চট্টগ্রামে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর ভবনের গেটে গুলি
চট্টগ্রাম নগরে চাঁদা না পেয়ে একটি আবাসিক ভবনে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক ওই ভবন মালিকের প্রবাসী ছেলের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার কয়েক দিনের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকার 'রুনা টাওয়ারে' এ হামলার ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুই যুবক ভবনের গেটে এসে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটির মালিক হাজী ইউনুসের দুই ছেলে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। বড় ছেলে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তার কয়েক দিন আগেই একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ওই প্রবাসীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এই গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, 'দুই যুবক ভবনের গেটে এসে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলে। এরপর চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। চাঁদা দাবির সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
বেড়েই চলেছে চাঁদাবাজি ও হামলা
নগরের বায়েজিদ ও হামজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদার দাবিতে গুলি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র নতুন করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে দুই দফা গুলি ছোড়া হয়। ওই ঘটনায়ও চাঁদার দাবি পূরণ না করায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন-এর কার্যালয়ে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন সেখান থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।
এ ছাড়া গত ২৬ জুলাই হাটহাজারীতে পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিনের নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তার কাছেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
রুনা টাওয়ারে গুলি ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
