চট্টগ্রামে মহাসড়ক উন্নয়ন ও যাতায়াত সহজ করতে ১,৪৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প
চট্টগ্রাম সড়ক অঞ্চলের আওতাধীন ১৬টি জেলা মহাসড়কের প্রায় ২৪৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
'চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়)' শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে চলতি অর্থবছরের একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের আওতায় থাকা সড়কগুলো হলো—রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক, রাঙ্গুনিয়া-বাঙ্গাল হালিয়া (সুখ বিলাশ) সড়ক, মরিয়মনগর-রানীরহাট (গাবতলা) সড়ক, কুমিরা-সন্দ্বীপ সড়ক, পটিয়া-আনোয়ারা সড়ক, সিইউএফএল-হযরত মোহছেন আউলিয়া মাজার-জুইদণ্ডী ফেরিঘাট সড়ক, পটিয়া-চন্দনাইশ-বৈতলী সড়ক, মইজ্জারটেক-বোয়ালখালী-কানুনগোপাড়া সড়ক এবং ইলিশিয়া-ডেমুশিয়া-বাঘগুজারা-বেতুয়াবাজার সড়ক।
এ ছাড়া হোয়াইক্যং-শাপলাপুর সড়ক, কুতুবদিয়া-আজম সড়ক, বাঙ্গাল হালিয়া-রাজস্থলী সড়ক, রানীরহাট-কাউখালী সড়ক, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক, বাঘাইহাট-মরিশা সড়ক এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে আন্তঃজেলা এবং উপজেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম চট্টগ্রাম সড়ক জোনের এসব সড়ক। জোনের আওতাধীন ছয়টি সড়ক বিভাগের এসব সড়ক বর্তমানে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় সড়কের প্রশস্ততা কম, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী যোগাযোগের উপযোগী করে তোলা হবে। এতে যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জোনের আওতায় বর্তমানে ৭৮টি জেলা সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬৫৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে আগের দুই পর্যায়ের প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৭টি জেলা মহাসড়কের প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি জেলা মহাসড়কের ২০৮ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩টি জেলা মহাসড়কের ১৮১ দশমিক ২২ কিলোমিটার সড়ক উন্নীত করা হয়।
অবশিষ্ট সড়কগুলোর গুরুত্ব, ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা ও প্রয়োজনের তুলনায় কম প্রশস্ততা বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ে ১৬টি জেলা মহাসড়কের ২৪৩ দশমিক ৫৬৮ কিলোমিটার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এই দৈর্ঘ্য চট্টগ্রাম জোনের মোট জেলা সড়কের প্রায় ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ৪৮ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১৪২ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, ১৬৩ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার মজবুতকরণ এবং ২৩১ দশমিক ৬১ কিলোমিটার সড়কে সারফেসিং করা হবে। পাশাপাশি এক কিলোমিটার সড়কের শোল্ডারে হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
জলাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের আওতায় ১১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার সড়কাংশে রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক রক্ষায় আরসিসি প্লেট প্যালিসাইডিং, টো-ওয়াল, গাইডওয়াল ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পে মোট ১৬৪টি কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ায় এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জোনের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলা মহাসড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন করা হলে যাতায়াতের সময়ের পাশাপাশি যানবাহন পরিচালন ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে এসব সড়কের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি, পর্যটন ও পণ্য পরিবহনে গতি আসবে।
প্রকল্পটির ওপর 'সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড' নামের একটি স্বতন্ত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। সমীক্ষায় প্রকল্পটি কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে কার্যকর উল্লেখ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন এর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং এরপর মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে।"
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি সময় থেকে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
