সিলেটে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, বিপাকে ব্যবসায়ী-চাকরিজীবীরা
সিলেটে লোডশেডিং অসহনীয় আকার ধারণ করেছে। প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে নগর এলাকায়। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও বেশি শোচনীয়; সেখানে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ মিলছে না। একদিকে অসহনীয় লোডশেডিং, অন্যদিকে তীব্র গরমে জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা। সিলেট আবহাওয়া অফিস বুধবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এ অবস্থায় দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। সিলেটে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা যথাযথভাবে বণ্টন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসবে।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সিলেট অঞ্চলে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৬৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, 'যেহেতু বিদ্যুতের ঘাটতি আছে, তাই ফ্রিকোয়েন্সি মেইনটেইন করতে হচ্ছে। ফ্রিকোয়েন্সি মেইনটেইন করা না হলে পাওয়ার প্ল্যান্ট ট্রিপ করবে (বন্ধ হয়ে যাবে)। চলমান সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে, আমরাও চেষ্টা করছি। এটি মূলত জ্বালানি সংকট, একটি ন্যাশনাল ক্রাইসিস। এখন এটার সমাধান নিয়ে সব বিষয়ে তো আর আমি বলতে পারব না।'
নগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও একবার বিদ্যুৎ গেলে ফিরে আসতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহিদ বলেন, 'প্রায় তিন ঘণ্টা যাবৎ বিদ্যুৎ নেই। অসহনীয় গরমে অবস্থা নাজেহাল। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে বাসায় থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা উচিত, নয়তো জীবন চালানো আরও কষ্টের হয়ে যাবে।'
ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নগরের জিন্দাবাজার এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী জাবের আহমদ বলেন, 'গরমে এমনিতেই ব্যবসায় মন্দা, তার ওপর লোডশেডিং। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটর চালিয়ে দোকানের লাইট ও ফ্যান সচল রাখতে হচ্ছে, এতে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে।'
দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ ও এসি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত তাপমাত্রায় রাখতে না পারায় অনেক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'দিনে-রাতে অন্তত ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। রাত ১২টার পরেও বিদ্যুৎ চলে যায়, ফলে ঘুমানোরও সুযোগ নেই। রাত ১২টার পর তো বিদ্যুতের চাহিদা কমে, তখন কেন বিদ্যুৎ যাবে?'
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন বলেন, 'কয়েক দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিনে অনেকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালাতে গিয়ে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেটে লোডশেডিংয়ের চাপ বেশি মনে হচ্ছে। অথচ মাস শেষে বিলে কোনো কমতি থাকে না।'
তিনি সিলেটের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদারকি দাবি করেন এবং একই সঙ্গে সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
