আরসিইপি সদস্যপদ ও এলডিসি উত্তরণে সময় বৃদ্ধিতে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাইল বাংলাদেশ
রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) সদস্যপদ লাভ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ওয়েলিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে এ সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।
নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড এবং ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।
বৈঠকে আরসিইপি জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ জানায়, সদস্যপদ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলির বিস্তারিত জবাব ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাঠামোকে আরসিইপির উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরসিইপি এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের নীতিগত প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ দেশটির সক্রিয় সমর্থন চায়। পাশাপাশি আরসিইপির আওতায় সংবেদনশীল পণ্য ও শিল্প খাতের সুরক্ষায় আসিয়ানের এলডিসি সদস্যদের অনুরূপ ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
এলডিসি উত্তরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়সীমার পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়াতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে যে আবেদন করেছে, তার পক্ষেও নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়া হয়। কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের চলমান আর্থসামাজিক রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ জানায়, এলডিসি উত্তরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত করার কোনো অভিপ্রায় নেই। বরং অতিরিক্ত সময়কে টেকসই ও সুসংগঠিত জাতীয় প্রস্তুতি বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতির জন্য কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক এফটিএ সম্পাদনের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তা বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এলডিসি উত্তর সময়ে নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রথমত, আরসিইপি এএলডিসি পরবর্তী বাজার সুবিধা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি বার্ষিক 'দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, এফটিএ আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
