রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: দুটি মনোনয়নপত্র নিয়েছে বিএনপি
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি গণমাধ্যমকে বলেন, 'ফরম একজনের জন্য নিয়েছি, কিন্তু কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি যেন না হয় এ জন্য দুইটা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। তবে কারও নামে সেটি সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আমরা মনোনয়ন জমা দেব।'
চিফ হুইপ জানান, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেবে বিএনপি।
২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিনের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর একটি বৈধ ঘোষণা করা হলে অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
একজন প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
এর আগে, গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর আগামী ২০ আগস্ট ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়।
তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার জোটটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ১৯৯১ সালের পর এটিই হবে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ওই বছরের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না।
সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এক দিনের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করবেন।
একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে নির্ধারিত ভোটের সাত দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠক আহ্বান করবেন। তবে এই বৈঠককে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন হিসেবে গণ্য করা হবে না।
