৮ বছর পর সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ফের চালু হচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট
আট বছর বন্ধ থাকার পর সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট চালু হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওমানের বিমান সংস্থা সালামএয়ার সিলেট-মাস্কাট (ওমানের রাজধানী) রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট ছিল না। দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই কয়েক বছর ফ্লাইট পরিচালনা করলেও ২০১৮ সাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি আবারও ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সালামএয়ারের ফ্লাইট চালুর পর ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স এখান থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে সালামএয়ার সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এতে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ওমানপ্রবাসী সিলেটিদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
সালামএয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজি জানান, সালামএয়ারের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে এয়ারলাইনটি ৩৮টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, "বাংলাদেশ থেকে সালামএয়ার প্রতি সপ্তাহে মোট ২৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ১৪টি, ঢাকা থেকে সাতটি এবং সিলেট থেকে তিনটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।"
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে ফ্লাইদুবাই। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সিলেট-দুবাই রুটে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করলেও যাত্রী চাহিদা বাড়ায় পরে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। তবে পরিচালনাগত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইনটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়্যারহাউস। নতুন টার্মিনাল ভবনসহ আরও কয়েকটি উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
বর্তমানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্লাইদুবাই আবারও সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্লাইট পরিচালনায় নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ট্রাভেল খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট চালু হতে পারে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরেক এয়ারলাইন্স এয়ার আরাবিয়াও সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে তাদের ফ্লাইট চালু হতে পারে।
সম্প্রতি ওসমানী বিমানবন্দরে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছালে সিলেট-গুয়াহাটি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারিত হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল বলেন, "ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসী বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের এ উদ্যোগ সফল হলে এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সরাসরি উপকৃত হবেন।"
