‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ: তদন্ত চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে 'সমকামী কর্মকাণ্ডে' জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদল-ছাত্রশিবির উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, 'সমকামী কর্মকাণ্ডে' জড়ানোর অভিযোগে ভিত্তিতে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষকেই ডাকা হয়। এসময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার বিষয়ে শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব জুনায়েদ আবরার দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, প্রভোস্ট অফিসে অভিযোগকারীকে ডাকা হয়। তিনি বের হওয়ার পর পরই শিবিরের একজন আমাদের হাদি ভাইকে গালি দিয়ে। সেখান থেকে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তারপর তারা আমাদের ওপর হামলা করে।
তবে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে তদন্ত কমিটির মিটিং চলাকালে ছাত্রদলের দুই নেতা সভাস্থলে প্রবেশ করেন এবং সভায় চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে স্যারদের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যান।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে 'ছবি তোলা হয়েছে' এমন অজুহাত তুলে তারা (ছাত্রদলের নেতা-কর্মী) আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হাউজ টিউটররা এগিয়ে যান এবং তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা (ছাত্রদলের নেতা-কর্মী) আমাদের ওপর হামলা চালান।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া ও শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
