পাসপোর্টে ফিরল ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ লেখা, জলছাপে আসছে জুলাই শহীদদের ছবি
বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও 'ইসরায়েল ব্যতীত' (Except Israel) শব্দবন্ধটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ছয় বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাদ দেওয়া এই শব্দবন্ধনি পুনর্বহাল করে আজ রোববার আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় (জলছাপ) বড় ধরনের পরিবর্তন ও নকশা সংশোধন করার জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে যে নতুন ই-পাসপোর্টগুলো তৈরি হবে, সেগুলোর সবকটিতেই 'ইসরায়েল ব্যতীত' লেখাটি পুনর্বহাল থাকবে। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, নতুন ই-পাসপোর্ট বুকলেটের নকশা ও জলছাপে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এতে যুক্ত করা হয়েছে আন্দোলনের তিন শহীদের ছবি। নতুন জলছাপে স্থান পেয়েছে শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এছাড়াও শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবিও জলছাপে যুক্ত হচ্ছে।
পাসপোর্টের নতুন নকশায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সব ধর্মের প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের জলছাপ সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।
নতুন পাসপোর্টের পাতায় থাকবে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, জাতীয় মাছ ইলিশ, জাতীয় ফল কাঁঠাল, সোনালি আঁশ পাট ও চা-বাগান।
স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে থাকছে শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, ঐতিহাসিক কার্জন হল, লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল, সোনারগাঁয়ের পানামনগর এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'সংগ্রাম'।
ধর্মীয় উপাসনালয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির এবং খ্রিষ্টধর্মের হলি রোজারি চার্চ। এছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি ও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ছবি রাখা হয়েছে, তবে সৈকতের ছবি থেকে 'নৌকা' বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নকশায় বিগত সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বেশ কিছু রাজনৈতিক ও মেগা প্রজেক্টের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিসৌধ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যমুনা সেতু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।
