১ আগস্ট থেকে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা
১ আগস্ট থেকে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ১৫ মাস বয়সি সব শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ইপিআই এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে।
এ টিকা এমএমআর-২ টিকার সঙ্গে একই সেশনে দেওয়া যাবে।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় টাইফয়েডের টিকা এতদিন বাবা-মাকে বেসরকারিভাবে কিনে শিশুদের দিতে হতো।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টিকাদান প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের ইপিআই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নতুন ও কার্যকর টিকা অন্তর্ভুক্ত করে আসছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে টিসিভি ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (এনআইটিএজি) বাংলাদেশের সুপারিশ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে টিসিভিকে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশব্যাপী স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫ মাস বয়সি সব শিশুকে এক ডোজ টিসিভি দিতে হবে।
মাঠকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় ১৫ মাস বয়সি শিশুদের তালিকা তৈরি করবেন এবং সেশন শুরুর আগের দিন বাড়ি পরিদর্শন করে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবেন।
ডিজিটাল টিকাদান ব্যবস্থাপনা জোরদারে মাঠকর্মীদের ভ্যাক্সইপিআই অ্যাপের মাধ্যমে শিশুদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। টিকা দেওয়ার পর স্মার্ট হেলথ বিটি/ই-ট্র্যাকার অ্যাপে কার্ড স্ক্যান করে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। একইসঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সহজীকরণে উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় পাঁচ ডোজের ভায়ালে টিসিভি সরবরাহ করা হবে এবং ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে। টিকায় সংরক্ষণকারী উপাদান (প্রিজারভেটিভ) থাকায় মাল্টিডোজ ভায়াল পলিসি অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে টিকার অপচয় কমানো যায়।
এছাড়া অন্যান্য নিয়মিত টিকার মতো টিসিভির তথ্য ডিএইচআইএস-২-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি ৪ কোটি ২৫ লাখের বেশি শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়েছিল।
