সীমান্ত থেকে ঢাকায় আসছিল বিপুল পরিমাণ মাদক, ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৭
রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছিল। আর মাদক পরিবহনে একটি চক্র অস্ত্রবাহী এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার করছিল। তাদের কাছ থেকে বেলজিয়ামের তৈরি দুইটি বন্দুক ও একটি বিদেশি এলজিও জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পৃথক তিন অভিযানে বেলজিয়ামের তৈরি দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ, ১ হাজার ৭৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ, ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ৫টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. জয়নাল (৪২), মো. সামিউল হক (৪৩), নুর ইসলাম সুরুজ (৪৪), মো. হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়া (৪৫), সোহান চৌধুরী (৩০), মো. রবিউল ইসলাম মুন্না (২৪) ও মো. কাশেম (৩৫)।
ডিবি প্রধান বলেন, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী ব্রিজ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে ডিবির মিরপুর বিভাগ। এ সময় অস্ত্র ও মাদক বহনকারী দুটি প্রাইভেটকার রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে—একটি গাড়ির চালক পুলিশের সংকেত অমান্য করে ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে মো. জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জয়নালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি তল্লাশি করে বেলজিয়ামের তৈরি দুইটি বিদেশি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি, ১৫ রাউন্ড লিড বল কার্তুজ এবং ১০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপর একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে আরও ৪৫০ বোতল এস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে অস্ত্র ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুইটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়। তবে দ্বিতীয় গাড়িতে থাকা মাদক কারবারিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ রাজধানীতে এনে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা অস্ত্রবাহী এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার করত। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অস্ত্র আইনে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপর অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, একইদিনে সকাল সোয়া ১১টার দিকে ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম উত্তরা পূর্ব থানাধীন আজমপুর বিডিআর বাজার ও সমবায় মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ২০০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ সামিউল, নুর ইসলাম ও হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। তারা শেরপুর সীমান্ত থেকে মাদকগুলো ঢাকায় আনছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরেকটি অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিবির উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ সোহান, রবিউল ও কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এক্স নোয়া মডেলের গাড়ি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী পার্সেলের আড়ালে ইয়াবা ঢাকায় এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সোহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাফরুল ও খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায়, কাফরুল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের ঘোষিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া বিদেশি অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স আছে কি না এবং কীভাবে দেশে এসেছে, তা সিরিয়াল নম্বর যাচাই করে তদন্ত করা হবে।
