সাত ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ল ইউএস-বাংলার চেন্নাইগামী ফ্লাইট, বিকল এসি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ঢাকা থেকে চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ- নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে ফ্লাইটটি। এছাড়াও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের ভ্রমণ করতে হয়েছে। এতে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হন।
ফ্লাইটটির অনেক যাত্রীই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই যাচ্ছিলেন। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন তারা। সামিয়া শতাব্দী নামে ফ্লাইটটির এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
সামিয়া শতাব্দীর বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ফ্লাইট বিএস২০৫-এর। কিন্তু এটি সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে।
প্রথমে যাত্রীদের জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিলম্ব হয়েছে। পরে বলা হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। এরপর আবার জানানো হয়, জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যার কারণেও বিলম্ব হয়েছে।
বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানে ওঠার পর যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। সামিয়ার অভিযোগ, উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত উড়োজাহাজটির এসি বা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা সচল ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফ্লাইটটি চেন্নাই পৌঁছায়। যাত্রার পুরো সময়টাই এসি ছাড়াই তাদের কেবিনে থাকতে হয়। ফলে গরমের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
সামিয়া লিখেছেন, ফ্লাইটের অনেক যাত্রীই চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুও ছিল। তারা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। কেবিন ক্রুরা বারবার এসি চালু হবে বলে আশ্বাস দিলেও এসি ছাড়াই তাদের ভ্রমণ সম্পন্ন করতে হয়েছে।
সামিয়া জানান, ক্রু সদস্যরা পরে তাকে জানান, উড্ডয়নের আগেই তারা এসির সমস্যার বিষয়টি জানতেন এবং যাত্রীদের উড়োজাহাজের ভেতরে রেখেই তা মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান না করেই ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং চেন্নাই থেকে ফিরে এসে সেটি মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়।
তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইস দাবি করেছে, বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আংশিকভাবে সচল ছিল।
এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র মো. কামরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ''বিভিন্ন কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বে ছেড়েছে। তবে বিমানে একেবারেই এসি ছিল না, তা নয়। এসি চালু ছিল, তবে সেটি শতভাগ সক্ষমতায় কাজ করছিল না।''
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ''ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, বিমানের দুটি এয়ার কন্ডিশনিং প্যাকের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিকল ছিল, তবে অন্যটি সচল ছিল। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশিকা অনুযায়ী এ অবস্থায় বিমান পরিচালনা করা অনুমোদিত ছিল। যদিও এতে যাত্রীরা উল্লেখযোগ্য ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা এয়ারলাইনটিকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বলেছি।''
