চট্টগ্রামে পৃথক পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এবং দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় একটি পাহাড় ধসে পড়ে। মাটির চাপে একটি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হলে ভেতরে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশু মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীরের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘরটির ওপর পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মেয়র গলি এলাকার চশমা হিলে আরেকটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক রিয়াদুস সালেহীন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, সেখানে পাহাড়ের একটি অংশ বাবু কলোনির দুটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। একটি ঘরে সামিয়া আক্তার (১১) নামের এক শিশু ছিল। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় অন্য কেউ আহত হননি।
গত দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড় ধসে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ৪১২ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৪১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
