মুজিব বর্ষ উদযাপনে আওয়ামী সরকারের ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'মুজিব বর্ষ' উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, বেদি ও মূর্তি নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
'মুজিব বর্ষ' ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় উদযাপন কর্মসূচি। এটি ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কর্মসূচির মেয়াদ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
আজ রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে জানতে চান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সরকারের মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এ ব্যয়ের বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, "মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে সর্বমোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।"
তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব সংবলিত 'মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী' সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২৩ কোটি ২০ হাজার টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।
সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুজিববর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের আরও অনেক বিষয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "সরকার পর্যায়ক্রমে সেগুলোর হিসাব যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তো শুধু মুজিব বর্ষ। এছাড়া আগের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।"
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে তিনি বলেন, "বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। সবগুলোর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছি। পরবর্তীতে এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে, ভবিষ্যতে আমি নিশ্চিত করব।"
