রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু, বাকিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির চুক্তিতে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি কর্মীদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে জোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, 'গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে জনশক্তি ছাড়পত্র নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়।'
তিনি আরও জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই কর্মীদের জোরপূর্বক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সামরিক ক্যাম্প থেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, 'সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে সরকার।'
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চড়া বেতনের চাকরির আশ্বাসে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় যান। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সেখানে কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে উল্টো তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরকার তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশি কর্মীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ তুলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
