মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু, ইরান থেকে ফিরেছেন ১৮৬ জন
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তন্মধ্যে ১ জনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯ জনের লাশ দেশে আনা হয়েছে। তাদের পরিবারের অনুকূলে লাশ দাফন বাবদ বিমানবন্দর হতে ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে নিহত হওয়ায় মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।'
মন্ত্রী আরও বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ হতে প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা হয়।'
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে লেবাননে ৫ জন, সৌদি আরবে ৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ জন, ইরাকে ১ জন এবং বাহরাইনে ১ জন মারা গেছেন।
প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'বিমানবন্দর হতে অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বহরে ২টি হিমায়িত অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে) এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিমানবন্দরে আরও ২টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।'
তিনি যোগ করেন, 'হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের মালপত্র বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া আহত ও অসুস্থ প্রবাসী কর্মীদের বিমানে ওঠা-নামার সুবিধার্থে ১০টি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে।'
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, 'সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশ্রামাগার স্থাপন ও ৩০ শতাংশ ছাড়ে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র (প্রাথমিক চিকিৎসা) স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
