আইসিটির ১৭ মামলায় আসামিদের পক্ষে ৪৪ জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচারাধীন ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে ৪৪ জন স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম বৈঠকে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়ের হওয়া গুম, হত্যা ও নির্যাতনের মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রশ্নে ওই সংসদ সদস্য বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন, এসব মামলা কিছু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের আওতায়, জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ ছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার যেকোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত সাক্ষী ও নতুন প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংশোধিত আইনে অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও—তদন্ত ও বিচারকাজ অব্যাহত রাখার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না ঘটে। এ ছাড়া বিচার এড়াতে পলাতক হওয়া আসামিদের সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধিত আইন আসামির অধিকার আরও সুসংহত করেছে। এতে দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচারের নিশ্চয়তা, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়, আইনজীবীর সঙ্গে গোপনীয়ভাবে যোগাযোগের সুযোগ এবং প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় খরচে দোভাষী নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণের অধিকার সুরক্ষায় পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) কার্যবিধি, ২০১০-এর ৪৩ ও ৪৫সি বিধি অনুযায়ী, ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে ৪৪ জন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে কেবল প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধেই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
