অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: শিল্পমন্ত্রী
দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ভবনে আয়োজিত 'জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, 'চলমান ও নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।'
এ লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিসিক কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, 'বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে বিসিক ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।'
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পনগরী ও শিল্প পার্ক স্থাপন, বিসিক শিল্পনগরীর বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, অনাবাদ্দ প্লটের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌচাষের উন্নয়ন, 'এক গ্রাম এক পণ্য' উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং নকশাকেন্দ্র আধুনিকায়ন।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিসিকের ৬৯ বছরের অর্জন, বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং শিল্পনগরীগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
একই দিন বিকেলে শিল্পমন্ত্রী বিসিক ভবনে পাঁচ দিনব্যাপী 'বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬'-এর উদ্বোধন করেন। ৫৬টি স্টলের এ মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।
মেলাটি ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
