প্রহসনের বিচারের সাজা দিল, আমি বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম: রায় ঘোষণার পর ইনু
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজা ঘোষণার পর রায়কে 'প্রহসনের বিচার' আখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইনু বলেন, 'প্রহসনের বিচারের সাজা দিল, আমি বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।' এ সময় প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য কয়েকজন আসামি 'জয় বাংলা' বলে স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ইনুর স্ত্রী আফরোজা হক রীনা সাংবাদিকদের বলেন, 'ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় প্রত্যাখ্যান করি, ঘৃণা করি। আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আইনজীবী, পরিবার ও দলের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।'
উল্লেখ্য, রায়ে তিন অভিযোগের প্রতিটিতে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে ইনুকে। ৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় এবং আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আপিলের মাধ্যমে আমরা ইনুকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে বর্ধিত শাস্তি চাইব এবং বাকি অভিযোগগুলো থেকে তার খালাসকে চ্যালেঞ্জ করব।'
তিনি বলেন, 'যেসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রমাণের জন্য যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল যে সাজা এবং খালাসের রায় দিয়েছেন, সেটি আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা অনুভব না করেই দিয়েছেন। ইনুর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অভিযোগের ভিডিও এবং অডিও ডকুমেন্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইনু সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সেসব অভিযোগ স্বীকারও করেছেন। তারপরও আদালত তাকে কীভাবে সাজা কম দেয় বা খালাস দেয় সেটি বোধগম্য নয়। তাই আমরা অবশ্যই এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে আপিল বিভাগে আপিল করব।'
তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড বলা হবে নাকি ১০ বছরের কারাদণ্ড বলা হবে, সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'অবশ্যই এটিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বলতে হবে। অবশ্যই তিনি ৩০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত। ট্রাইব্যুনাল যেহেতু সাজাটা কনকারেন্ট (সমসাময়িক) করে দিয়েছেন, তাই একসাথে ১০ বছর খাটবেন। তবে আমরা মনে করি, এই ৩০ বছর কনজিকিউটিভ (পরপর ভোগ করা) রায় হওয়া উচিত ছিল অ্যাটলিস্ট। ১০ বছর সাজা, এরকম বলার কিছু নেই।'
