জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় দুজনকে হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করা এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ ছাড়া রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি চার আসামি পলাতক।
রোববার (২৮ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন।
সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। শুরুতেই প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতির পর বিটিভিতে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে বিচারক মোহিতুল হক এনাম অভিযোগপত্র পাঠ করেন এবং বিচারক শফিউল আলম মাহমুদ রায়ের আদেশ ঘোষণা করেন।
এর আগে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে এজলাসে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির হাত থেকে বাঁচতে আমির হোসেন রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে ভবনটিতে ওঠে। একপর্যায়ে আমির ভবনের ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ রায় ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
