বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে ৫ বছরে নিট মুনাফা ১৬৩ কোটি টাকা: আইসিটিমন্ত্রী
দেশের প্রথম উপগ্রহ 'বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১' এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৫টি অর্থবছরে ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। এই সময়ে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪.১০ কোটি টাকা।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রশ্নের শুরুতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়ে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যেই শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরে তিনি জানতে চান, প্রথম স্যাটেলাইট থেকে গত ৫ বছরে মোট কত টাকা নিট লাভ হয়েছে এবং দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা কী? এটিও যে আরেকটি 'শ্বেত হস্তী' প্রকল্পে পরিণত হবে না—তার নিশ্চয়তা কী?
জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক ব্যবহার চলছে। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার, ডিটিএইচ সেবা, ভি-স্যাট সেবা, বিদেশে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিক্রয় এবং দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান রাখছে।
সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর বিগত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে ১২৯.১১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৮৪.২৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩০.৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৮৫.২৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে।
এর পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪৭.৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও ৭৩.৫৭ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে।
পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৬৯.৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ২৯.৬৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে এই স্যাটেলাইট থেকে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮৭.০৭ কোটি টাকা, নিট মুনাফা হয়েছে ৩৮.৩৬ কোটি টাকা।
গত ৫ অর্থবছরে সর্বমোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪.১০ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা।
মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের ৩০ জুন স্যাটেলাইটের সম্পত্তি বিএসসিএলের কাছে হস্তান্তর হওয়ায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে অবচয়মূল্য হিসাবভুক্ত করার কারণে ওই নির্দিষ্ট অর্থবছরে কাগজে-কলমে লোকসান দেখা গেলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা পুনরায় মুনাফা হয়েছে।
'বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২' উৎক্ষেপণ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংসদে জানান, এটিকে মূলত একটি 'আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট' হিসেবে মহাকাশে পাঠানোর কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে চলাচলরত জাহাজের ট্র্যাকিং, ব্লু ইকোনমি এবং দেশের সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
প্রকল্পটির অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও ফলপ্রসূতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে। এই ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফল পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
