অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাদ দেয়ার কোনো আলোচনা হয়নি, জানি না এ সংবাদ কোথা থেকে আসলো: শিক্ষামন্ত্রী
অনার্স (সম্মান) পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেয়ার ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে এমন কোনো আলোচনা হয়নি, আমরা কোথাও শুনিনি এবং আমরাও কোথাও করিনি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা—এটা কি বাদ দেয়া যেতে পারে? এমন কোনো আলোচনা হয়নি, আমার জ্ঞাতসারে নেই। আমি জানি না এ সংবাদ কোথা থেকে আসলো।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা কারিগরি-আইসিটিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা রয়েছে, সেগুলোকে আমরা দেখছি, সেটা তো প্রতিনিয়তই আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বাদ পড়বে—এই আলোচনা আমরা কোথাও শুনিনি।'
মন্ত্রী জানান, বাজার ও বিশ্বের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত নতুন নতুন কোর্স ও বিষয় চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা নিয়মিত নতুন শিক্ষাক্রম ও কোর্স চালু করছি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং প্রতিটি স্তরেই আমরা এটি ইন্ট্রোডিউস (প্রবর্তন) করছি। কিন্তু বাংলাকে বাদ দিয়ে বা ইতিহাসকে বাদ দিয়ে—এমন কথা কোথাও হয়নি।
'কোনো কিছু কমানো হবে, সংকুচিত করা হবে কিংবা বন্ধ করে দেওয়া হবে—এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা শুধু আলোচনা করছি যে কীভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করব এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা দেব। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া রিলেশন কীভাবে আরও মজবুত হবে—সেগুলো নিয়েই আমাদের আলোচনা চলছে', আরও বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানায়।
এরপর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নাকচ করে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
