কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দলকানা গভর্নর বসিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখলে ব্যস্ত সরকার: শফিকুর রহমান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দলকানা গভর্নর বসিয়ে সরকার ইসলামী ব্যাংক দখলে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, 'দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৫টি ব্যাংক নিয়ে সমন্বিত ব্যাংক হয়েছিল সেই ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকার জন্য ঘুরছে, সমাধানের উদ্যোগ নেই। সরকার সমৃদ্ধ ইসলামী ব্যাংক দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে জুম মিটিং করে ইসলামী ব্যাংক দখলের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।'
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টায় সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় শফিকুর রহমান বলেন, 'বিরোধী দল হিসেবে আমরা খুব ছোট নই। যদি আমরা আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ বিরোধী দলে থেকেও সরকারি দলের স্টিয়ারিং ঠিক করে দিতে পারব।'
তিনি আরও বলেন, 'আর যদি দেখি পারছি না। তাহলে ওই দুষ্ট গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গিয়ে বলব- স্টপ হেয়ার। ডোন্ট ক্রস ইওর লিমিট। তোমাদেরকে আর সামনে এগোতে দেওয়া যাবে না। জীবন তো একটাই। লড়াই করে জাতীর জন্য, মানবতার জন্য, দ্বীনের জন্য জান দিতে রাজী।'
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের সমালোচন করে শফিকুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সেনসেটিভ জায়গায়, যেটাকে অর্থনীতির হার্ট বলা হয়, সেখানে এমন এক ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে বসানো হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কেনো, বিশ্বের ইতিহাসেও এরকম কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে, এমন কোনো নজির নাই।'
তিনি বলেন, 'তিনি [গভর্নর] একজন ঋণখেলাপি। তিনমাস আগে তিনি ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি একটা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মালিক। একটা গার্মেন্টস যিনি ঠিক মতো চালাতে পারছেন না, তিনি আবার ব্যাংলাদেশ চালিয়ে দেবেন- হাস্যকর।'
তিনি আরও বলেন, 'তাকে কেন এখানে আনা হয়েছে? তিনি যেহেতু দলকানা, তাই তাকে এখানে আনা হয়েছে।'
জামায়াত আমির বলেন, 'পলাতক, ফ্যাসিস্ট ও লুটপাটকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে জোর জবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারে বসানোর ফলাফল ভালো হবে না। যে গ্রাহকের ৫টি শেয়ার আছে, সেও ইসলামী ব্যাংকের একজন মালিক। সুতরাং একটি সমৃদ্ধ ব্যাংক দখল হয়ে যাবে, গ্রাহকরা বসে থাকবে না। এজন্য গ্রাহক হিসেবে আমাকেও রাজপথে নামতে হতে পারে।'
শফিকুর রহমান আরও বলেন, 'শিশুধর্ষণ ও হত্যা, খুন, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর সরকার ব্যস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে দলকানাদের বসাতে।'
তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ গণভোট 'হ্যা' দাতাদের অপমান করে তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে।
এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, 'এর ফল সরকারকেই বহন করতে হবে। স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসনের ইচ্ছা থাকলে পরিণতির জন্যও ভাবতে হবে। জুলাই বার বার ফিরে আসবে। আমরা আর কোনো মূল্যবান জীবন হারাতে চাই না।'
এক মাসের মাথায় আবারও জ্বালানি তেলের দামও বাড়ানোর সমালোচনা করে বিরোধী দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, 'দাম বাড়ানো হয়েছে রাতের আঁধারে। এটাও কি রাতের সরকার- এমন প্রশ্ন জনগণ করতে পারে।'
জামায়াত আমির বলেন, ভোটের আগে তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালালেন। এখন বলেন নির্বাচন যদি না দেয়, সেই ভাবনা থেকে গণভোট মেনে নিয়েছিলাম। এটি জনগণের সাথে সুষ্পষ্ট প্রতারণা।'
তিনি বলেন, 'তারা ইতোমধ্যে প্রতারণার ফলাফল পেতে শুরু করেছেন। একটি সরকারের ৩ মাসের মাথায় মন্ত্রীদেরকে ভুয় ভুয়া স্লোগান শুনতে হচ্ছে। অথচ আমরা মনে কষ্ট নিয়েও নির্বাচনি ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। আবার সরকারের জ্ঞানী মন্ত্রীরা বলেন সংবিধানে গণভোট নাই। গণভোট না কি অবৈধ। তাহলে শহীদ জিয়া কীভাবে গণভোট করেছিলেন, এর উত্তর তাদের কাছে নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে আদেশে জাতীয় নির্বাচন হলো, সেই একই আদেশে গণভোট হলো। তাহলে একটা বৈধ আর একটা অবৈধ হয় কীভাবে? এটা প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণকে অপমানের শামিল।'
জনগণকে যারা অপমান করে তাদেরকে জনগণও ছেড়ে দেয় না মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা মনে কষ্ট নিয়েও জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়েছিলাম। কিন্তু আর কোনো ছাড় দেব না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। লড়াই থামবে না।'
তিনি বলেন, 'সরকার ভালো করলে সহযোগিতা করব, মন্দ করলে প্রতিবাদ করব, বাধা দেব। নিরব বসে থাকব না।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের চেয়ারে দলকানাদের বসিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছেন। ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে পতনের ছিদ্র কিন্তু খোলা থাকবেই। জুলাই থেকে শিক্ষা না নিলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।''
মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুধী সমাজকে জামায়াতের যোগদানের আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
