এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, সাময়িক বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা
বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলমসহ সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াসিন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ট্রেনিং একাডেমিতে পাঠানো হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি বেতনের অর্ধেক পাবেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইয়াসিন আলী দুদকে অভিযোগ দাখিল করলেও প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তা করেছেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ইয়াসিন আলী দাবি করেছেন, তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগটি দাখিল করেছেন। তাকে কেন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এর শর্ত কী—জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
ইসলামী ব্যাংকের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে। একই সঙ্গে ব্যাংকের চেয়ারম্যানও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন টিবিএসকে বলেন, "যে কর্মকর্তা অভিযোগ দিয়েছেন, তিনি প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই এমনটি করেছেন। এ কারণে এইচআর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একটি কোম্পানির হয়ে পরিচালক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে অবশ্যই মামলা করা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্তসহ মামলা করতে হবে।"
মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, "যখন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, আমি এমডিকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাকে টার্মিনেশনের বিষয়ে আমার কোনো ভূমিকা নেই। বিষয়টি ব্যাংকের এইচআর করেছে।"
এর আগে গত ২৯ জুন ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী দুদকে অভিযোগপত্রটি জমা দেন।
অভিযোগে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন। এর ফলে ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
