গাবতলী হাটে গরুর দামে ধস, অবিক্রিত পশু নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন ব্যাপারীরা
রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে এবার শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কম থাকায় এবং পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় গরুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে অনেক খামারি ও ব্যাপারি লোকসানে গরু বিক্রি করে অবিক্রিত পশু আবার ট্রাকে করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গাবতলী হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে অবিক্রিত গরু উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। কেউ আবার ট্রাক না পেয়ে হাট জুড়ে পরিবহনের খোঁজ করছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লাভলু বলেন, '৪৪টি গরু এনেছিলাম। বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ১৩টি। বাকি গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কোরবানি হয়ে গেছি।'
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে আসা আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি ৩৮টি গরু কিনে ঢাকায় এনেছিলেন। এর মধ্যে ১৬টি বিক্রি হয়নি।
তিনি বলেন, 'ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, আজ সেটি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। ঋণ করে গরু কিনেছি, টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।'
খামারি ও ব্যাপারীরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে হাটে গরু রাখার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। তাই অনেকেই বড় ধরনের লোকসান মেনে গরু বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রতি গরুতে লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে গরুর দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল স্বস্তি। অনেকেই বলছেন, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।
ক্রেতা মোহাম্মদ ফারদিন বলেন, 'যে গরুর দাম ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি।'
আরেক ক্রেতা সাহেদ বলেন, 'ঈদের আগের দিন থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।'
উল্লেখ্য, গাবতলী হাটে দুপুর ১১টার পরও হাজার হাজার গরু দেখা যায়। ব্যাপারীদের দাবি, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় বাজারে দামের বড় পতন ঘটেছে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে দাম কমা শুরু হয়।
গত ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কুরবানি করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, কুরবানিকৃত ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি। এছাড়া, ছাগল ও ভেড়া ছিল ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি ও অন্যান্য পশু ৯৬০টি ।
এর আগ, গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন,পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এবার চাহিদা হবে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
