মহাসড়ক তদারকি ও ঈদ নিরাপত্তায় সরকার কঠোর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখবে।
তিনি জানান, গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্রিয় রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে 'ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার' পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
এসময় তিনি কেন্দ্রের মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, 'পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সারা বছর কার্যকর থাকলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদের সাত দিন আগে থেকে পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত এটিকে বিশেষভাবে শক্তিশালী ও সক্রিয় করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ দেশের সকল মহাসড়ক, পশুর হাট এবং এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের যে অংশগুলোতে সিসিটিভ ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যরা 'বডি ওর্ন ক্যামেরা' ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করছেন।'
এবারের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে তার প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব এবং ব্যক্তিগত গাফিলতি।'
নওগাঁগামী রড বোঝাই ট্রাকের ছাদে যাত্রী পরিবহনের গতকালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, 'পরিবহন ভাড়া বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সময় ভারসাম্য হারানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।' তিনি নাগরিকদের ভ্রমণের সময় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'অনুমোদিত পশুর হাটের বাইরে যেন কোনো অবৈধ হাট বসতে না পারে সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রো রেল লাইনের নিচে বসানো একটি অবৈধ হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাটে জালনোটের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত জালনোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।'
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ম্যানুয়াল টোল সংগ্রহ পদ্ধতির কারণে এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাল অটোমেশন (যেমন যানবাহনে অটোমেটেড কার্ড পেমেন্ট সিস্টেম) চালুর পরামর্শ দেওয়া হবে এবং ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে।
সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।
সংবাদকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে তিনি বলেন, 'আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত তিন মাসে দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার যেভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে, এই মাদক সিন্ডিকেট এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও সমভাবে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।'
প্রেস ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
