ঈদযাত্রা: শিল্প কারখানায় ছুটি শুরু, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাড়ছে গাড়ির চাপ
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে শিল্প-কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হতেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে গাজীপুরের কর্মজীবী মানুষ।
আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় এবং যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন জানান, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতসহ সিংহভাগ কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে।
আজ প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) আরও ৪৭ শতাংশ কারখানায় ছুটি হবে। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ কারখানা ২৭ মে ছুটি ঘোষণা করবে।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ শতাংশ শ্রমিকের বেতনও আজকের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। ধাপে ধাপে ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে একযোগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ তার।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের চন্দ্রা, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া পেয়ারা বাগান ও টঙ্গী এলাকায় উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের ভিড় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। হাতে, কাঁধে ও মাথায় ব্যাগ নিয়ে প্রিয়জনদের টানে মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতিতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে বাড়তি ব্যস্ততা। অতিরিক্ত গাড়ির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতি থাকলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে, দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি মহাসড়কে যানবাহনের গতি কমিয়ে দিয়েছে। যাত্রীদের দূর্ভোগে ফেলে দিয়েছে। বৃষ্টির সময় অনেক যাত্রী নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে যাত্রা করতে পারেননি। ফলে বিকালে আরো কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নামবে। ফলে বিকালের পর মহাসড়কে অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে যাত্রীর চাপ।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া কিছুটা বাড়তি হলেও এখনো স্বস্তিতে বাড়ির পথে রওনা হতে পারছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে মহাসড়কে চাপ আরও বাড়তে পারে।
পাবনাগামী যাত্রী ফজলুল হক বলেন, 'ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। কারখানা ছুটি হতেই সকাল সকাল রওনা হয়েছি। রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।'
রংপুরের যাত্রী বুলবুল হোসেন জানান, দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে যাত্রী বেশী থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অনেকে বেশী ভাড়া না দিয়ে খোলা ট্রাক-পিকআপ চড়ে যাচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, 'চন্দ্রা এলাকাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে যানবাহনে ধীরগতি হতে পারে। তবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
তিনি আরও জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চলছে। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বিকল হলে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজ বিকেলের পর এবং মঙ্গলবার অধিকাংশ বড় কারখানা ছুটি হলে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। তবে ঈদ শেষে মানুষ যাতে আবার স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সেজন্যও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগর, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ।
