যশোরে চার শতাধিক দুস্থ নারীকে নিজ হাতে আপ্যায়ন করলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম
ঈদুল আজহার আনন্দ যখন কড়া নাড়ছে সবার দুয়ারে, তখন সমাজের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য উদ্যোগ দেখা গেল যশোরে। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও আন্তরিক আবহে দুস্থ নারীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একবেলা উন্নতমানের খাবারের। আর এই অতিথিদের নিজ হাতে পরম মমতায় আপ্যায়ন করে নজর কেড়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (২২ মে) যশোরের অভিজাত কনভেনশন সেন্টার 'লাক্সারি ডাইনে' এই ব্যতিক্রমী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। আমেরিকান সাহায্য সংস্থা এডুকেশন চ্যারিটেবল হিউম্যানিটেরিয়ান অর্গানাইজেশন (ইকো) এবং ইমদাদ সিতারা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহরের প্রায় চার শতাধিক দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত নারী।
অনুষ্ঠানের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিজ হাতে এই নারীদের খাবার তুলে দিয়ে আপ্যায়ন করেন। অভিজাত এক পরিবেশে এমন আতিথেয়তা ও উন্নতমানের খাবার পেয়ে উপস্থিত নারীরা আবেগাপ্লুত হন।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শহরের আরএন রোডের বাসিন্দা জেসমিন খাতুন বলেন, 'আমি কখনো এত ভালো জায়গায় আসিনি। আমাকে কেউ কোনোদিন ডেকে অতিথি হিসেবে খাবার খাওয়ায়নি। আজকে আমি খুব খুশি। মন্ত্রী স্যার নিজ হাতে আমার প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছেন, এটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এতে আমি অনেক বেশি আনন্দিত।'
নাজমা বেগম নামে অপর এক নারী বলেন, 'আজ পোলাও, রোস্ট, গরুর মাংস আর ডিমের কোরমা দিয়ে তৃপ্তি করে খেয়েছি। মন্ত্রী সাহেব আমাদের এত ভালোবেসে খাওয়াবেন তা কখনো কল্পনা করিনি। আমি ওনার জন্য এবং ইকো সংস্থার জন্য মন থেকে দোয়া করছি।'
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যে বলেন, 'সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং ইকো বা ইমদাদ সিতারা ফাউন্ডেশনের মতো মানবিক সংগঠনগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে উৎসবের দিনগুলোতে কোনো মানুষই নিজেকে আর একা ভাববে না। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসেই ঈদের সত্যিকারের আনন্দ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে।'
আয়োজক সংস্থা ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আব্দুল কাদের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, 'কোরবানি ঈদের আগে এই ছিন্নমূল নারীদের মুখে একটু হাসি ফোটানোই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় এই মহৎ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।'
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামার আরিফ নূর।
