গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে
তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের স্বল্পতায় অনেক কারখানাই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় জেনারেটর সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পিক আওয়ারে গ্যাসের চাপ কমে ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ পিএসআইয়ে নেমে আসছে। আগে যেখানে ১০ পিএসআই পর্যন্ত গ্যাসের চাপ পাওয়া যেত, এখন সেখানে অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালানোই সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকায় গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। সমস্যাগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ভুক্তভোগী কারখানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিতাসের গ্যাস লাইনের সঙ্গে যুক্ত তেজগাঁও এলাকার অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও একই ধরনের সংকটে পড়েছে।
ডিজেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ
বিকল্প হিসেবে শিল্পকারখানাগুলোকে এখন ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. আব্দুল মান্নান খান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও বেড়েছে।"
একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গ্যাস না থাকলে জেনারেটর চলে না, জেনারেটর না চললে বয়লার চলে না। আর বয়লার বন্ধ থাকলে আমাদের পুরো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।"
তিনি বলেন, "আমাদের জেনারেটর ও বয়লার—দুটোরই অনুমোদিত লোড ১৫ পিএসআই। কিন্তু আমরা কখনোই ১৫ পিএসআই পাই না। সকাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ ৪ পিএসআই এমনকি ২ পিএসআইয়ে নেমে আসে। ফলে জেনারেটর বা বয়লার কোনোটাই চালানো যাচ্ছে না।"
এদিকে, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের সদর দপ্তর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে হলেও প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কারখানা ঢাকার জিরাবো ও ধামরাইয়ে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্যাসের তুলনায় ডিজেল অনেক বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, "শুধু জেনারেটর চালাতেই প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ডিজেল খরচ হচ্ছে। আর উৎপাদন কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় পুরো উৎপাদনই এখন ডিজেলের ওপর নির্ভর করছে।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিতাসের একই গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই সমস্যায় ভুগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তিতাসের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ
তিতাসের অপারেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "ওই এলাকায় গ্যাসের স্বল্পতা থাকার কথা নয়। পুরো রাজধানীতে চাহিদার চেয়েও বেশি গ্যাস সরবরাহ করছে তিতাস। তবে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে কোথাও কোথাও সংকট তৈরি হতে পারে।"
তিনি বলেন, "বৈধ গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না। আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও আবার অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে।"
"আমাদের নিজস্ব কোনো বাহিনী নেই। নিজস্ব লোকবল দিয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন করি, কিন্তু পরে আবার সংযোগ হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত," যোগ করেন তিনি।
