চট্টগ্রামের বাসা থেকে পাচারের জন্য আনা তিন মহাবিপন্ন চশমাপরা হনুমান উদ্ধার
চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে পাচারের জন্য আনা তিনটি মহাবিপন্ন প্রজাতির চশমাপরা হনুমান উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ডিভিশন।
রোববার রাতে খুলশি থানার হাই লেভেল রোডের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ডিভিশনের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুতফর পারভেজ টিবিএসকে বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, হাই লেভেল রোডের একটি বাসায় পাচারের জন্য কিছু বন্যপ্রাণী রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে প্রথমে বাধার সম্মুখীন হই। পরে পুলিশের সহায়তায় বাসায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি চশমাপরা হনুমান উদ্ধার করি।'
তিনি বলেন, 'উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি প্রাপ্তবয়স্ক হনুমান খাঁচায় বন্দী ছিল। অন্য দুটি বাচ্চা প্লাস্টিকের ঝুড়িতে রাখা ছিল। বর্তমানে এগুলো আমাদের হেফাজতে আছে এবং যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তিনটিই সুস্থ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাসাটি বন্যপ্রাণী পাচারকারী জগলুর বলে জানা গেছে। তবে অভিযানের সময় সে বাসায় ছিল না। আমাদের সঙ্গে নারী কর্মকর্তা না থাকায় বাসায় থাকা এক নারীকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে নারী কর্মকর্তা পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান।'
হনুমান পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জগলুকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাচারের উদ্দেশ্যেই হনুমানগুলো ওই বাসায় আনা হয়েছিল।'
চশমাপরা হনুমান দেশের একটি মহাবিপন্ন প্রজাতি। ইংরেজিতে এটি Spectacled Langur, Phayre's Langur বা Phayre's Leaf Monkey নামে পরিচিত। কালো হনুমান বা কালা বান্দর নামেও পরিচিত এ প্রাণীর কালো মুখমণ্ডলের চোখের চারপাশে সাদা দাগ থাকায় দেখতে চশমা পরা মনে হয়। Cercopithecidae গোত্রভুক্ত এ প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম Trachypithecus phayrei। দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের মধ্যে আকারে এরা সবচেয়ে ছোট এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের বসবাস।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এ ধরনের বিপন্ন বন্যপ্রাণী হেফাজতে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
