ডাবল ডিজিট থেকে কমিয়ে সুদের হার বিনিয়োগবান্ধব করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ডাবল ডিজিটের (দুই অঙ্কের) সুদের হার কমিয়ে তা বিনিয়োগবান্ধব করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী 'বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন' (বিটিকেজি এক্সপো-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেড যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'দুই অঙ্কের সুদের হারে ঋণ নিয়ে টেক্সটাইলের মতো ইন্ড্রাস্ট্রি, হাই কস্টে এই শিল্পের সার্ভাইভ করা সম্ভব না, এ বিষয়ে আমরা সচেতন। আমরা এই সুদের হার কমিয়ে আনব। এই সুদের হার এমন হতে হবে যেটা নিউ ইনভেস্টমেন্ট এবং অনগোয়িং বিজনেসের গ্রোথকে সাপোর্ট করে। এটা হচ্ছে একটা প্রায়োরিটি কন্ডিশন।'
শিল্পের বর্তমান সংকট তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, 'এই মুহূর্তে যে কারণে ইন্ডাস্ট্রিগুলি সাফার করছে, তার মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে জ্বালানির অভাব আর ডাবল ডিজিট ইন্টারেস্ট। ১৩ থেকে ১৪ পারসেন্ট কস্ট অব ফান্ড দিয়ে প্র্যাকটিক্যালি টেক্সটাইল বা এই রকম শ্রমঘন কম আয়ের ব্যবসা—মানে কম লাভের ব্যবসা এটা সারভাইভ করা সম্ভব না। এই জাতীয় ইন্টারেস্ট দিয়ে হয়তো এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি সারভাইভ করবে যারা বিমান বানায়, হাইটেক কোনো প্রোডাক্ট বানায় তাদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু টেক্সটাইল এর মতো যে প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রি বা অন্য যেগুলো আমাদের আছে, সেগুলো এই রকম হাই কস্টে সারভাইভ করা সম্ভব না। আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ সচেতন।'
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, 'জ্বালানির যে অব্যবস্থাটা আমরা পেয়েছি—এটা আমরা তৈরি করিনি, আমরা এটা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। আজকে বাংলাদেশে যদি পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে হয়, তাহলে আমাদের দরকার ৪৩০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। এই মাটির নিচ থেকে আসে ২৩০০-১৭০০। আর এলএনজি দিয়ে আনি আমরা মোটে ৯০০। তাহলে ডেফিসিট কত? আরও ১৪০০ থেকে ১৭০০ ডেফিসিট। যদি প্রত্যেককে ফুললি স্যাটিসফাই করতে হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'কালকেই এলএনজি বাড়ানো সম্ভব না। সরকার প্রস্তুত এলএনজি আনার জন্য, কিন্তু এলএনজি বাড়ানো সম্ভব না। কারণ এলএনজি লিকুইড, এটাকে গ্যাসে রূপান্তরের জন্য যে কলকব্জা, সেই এফএসআরও আছে আমাদের দুইটা। দুইটার ক্যাপাসিটি হলো ১১০০। যেটা ৯০ পারসেন্ট এফিসিয়েন্সিতে চললে ৯৩৫-৯৫০ পর্যন্ত আসে। সরকার যেটা উদ্যোগ করছে, জ্বালানির পরিমাণ কিছু ইনক্রিজ করার জন্য সরবরাহের। আমরা আরও এফএসআরও টেন্ডার করব যেটার মাধ্যমে আগামী দিনে গ্যাস বেজড ইন্ডাস্ট্রি আমরা বড় করতে পারি। সরকার সেদিকে কাজ করছে।'
ব্যবসা সহজীকরণে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'আজকের দিনে আপনি যদি একটা নতুন ব্যবসার জন্য আবেদন করেন, ২৫-২৬ টা লাইসেন্স এবং ক্লিয়ারেন্স পেতে পেতে আপনার বহু মাস লাগে বা বছর লেগে যায়। আগামী দিনে আমরা এমন একটা ব্যবস্থা রাখব যেখানে অ্যাপ্লাই করার সাথে সাথে আমরা প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স বা লাইসেন্স যেটাই বলেন, সেটা রাইট অ্যাওয়ে ইস্যু করে দেব। পার্মানেন্ট ক্লিয়ারেন্সের জন্য তখন প্রসেস চলবে, সেটা ছয় মাস হোক এক বছর হোক তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ প্রভিশনাল লাইসেন্স বা ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার মাত্রই আপনি আপনার কাজ শুরু করে দিতে পারেন। যে জিনিসটার প্রসেস করার জন্য আগে বছর দেড় বছর যেত, সেটা এখন অ্যাপ্লাই করা মাত্রই ইনশাআল্লাহ যাতে পেয়ে যান সেই ব্যবস্থা আমরা নেব।'
বন্ড লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বন্ডের রিনিউ হয় এখন প্রতি তিন বছর। এই প্রসেসটা ব্যবসায় সহায়ক সিম্পলিফাই করার উদ্যোগ এনবিআরে নেওয়া হচ্ছে অচিরেই।'
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ২৮টি দেশের ৯০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছেন। মোট ১,২০০টি বুথ নিয়ে প্রায় ২০,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই আয়োজন বিস্তৃত। প্রদর্শনীতে কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সর্বাধুনিক পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রদর্শনীটির আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান, ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন এবং বিকেএমইএ-র সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত।
