তামাকপণ্যের শুল্ক কর ও বেস প্রাইস আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে: জোনায়েদ সাকি
বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধা দূর করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। একই সাথে তিনি তামাকপণ্যের শুল্ক-কর ও বেস প্রাইস আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে 'জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা' শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য পুওর (ডর্প) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, "তামাকপণ্যের শুল্ক কর ও বেস প্রাইস আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তামাক চাষি ও তামাক কোম্পানির শ্রমিকদের বঞ্চিত রেখে তামাকপণ্যের দাম কমিয়ে রাখা ঠিক নয়। তামাকপণ্যের কর আদায়ে লিকেজ আছে। ব্যান্ডরোল বিদেশ থেকে ছাপিয়ে এনে কর ফাঁকি দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। তাই তামাক খাত মনিটরিংয়ের জন্য এনবিআর পৃথক ব্যবস্থা চালু করতে পারে।"
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "৪০০ কোটি টাকা খরচ করে এনবিআর ডিজিটালাইজেশন করা হলেও তা ঠিকমতো কাজ করছে না। উল্টো সেগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।"
বিনিয়োগ ও অর্থনীতি নিয়ে সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বেসরকারি বিনিয়োগের বাধা দূর করতে সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে চায়। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানো। সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক 'ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি' গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কোথায় যাবে, তা আগামী অর্থবছরের বাজেট দেখলেই স্পষ্ট হবে।"
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সিগারেটের ওপর ট্যাক্স রেট বেশি হলেও আন্তর্জাতিক তুলনায় দাম অনেক কম। তাই দাম বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কর (স্পেসিফিক ট্যাক্স) আরোপ করা জরুরি।" তিনি আরও বলেন, ১৭০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিগারেটের দাম বাড়ালে অবৈধ সিগারেট বিক্রি বাড়ে না। মূলত বাজেটে কর বাড়ানো ঠেকাতে তামাক কোম্পানিগুলো এ ধরনের প্রচারণা চালায়।
ইআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (ভ্যাটনীতি) মো. মশিউর রহমান, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ডর্প-এর প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান।
