ক্ষমতার ভারসাম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়াই নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: জোনায়েদ সাকি
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রীরা দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন। "আমরা যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এখানে এসেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গণসংহতি আন্দোলনসহ গণতন্ত্র মঞ্চ এবং মোট ৩৯টি দল একসঙ্গে কাজ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি এবং শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই।"
তিনি বলেন, আন্দোলনের ভিত্তি ছিল একটি সুস্পষ্ট ৩১ দফা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি। সেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
"শুধু শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণও জরুরি। কারণ, অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন না এলে সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আসে না," বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দেশের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী জায়গা। এখানে দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। "প্রতিষ্ঠান যত দক্ষ হবে, আমরা তত দ্রুত এগোতে পারব," বলেন তিনি।
গত দেড় বছরে অর্থনৈতিক বিপর্যয় অনেকাংশে ঠেকানো গেছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি বিকশিত অর্থনীতির দিকে যাওয়া—যেখানে ব্যাপক বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্য হ্রাস অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, "অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। আমাদের দেখতে হবে কীভাবে বৈষম্য কমানো যায় এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়, যেখানে সম্পদ বণ্টন ও সুযোগের ক্ষেত্রে সকল পরিচয়ের মানুষ সমানভাবে অংশীদার হবে।"
দুর্নীতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব হবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
অর্থনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কেবলমাত্র কিছু সম্পদশালী ব্যক্তি তৈরি হলে 'ট্রিকল-ডাউন' প্রভাবে উন্নয়ন সবার কাছে পৌঁছাবে—এ ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতির আকার বড় হয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী হয়।
"১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই দেশে একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার গড়ে তোলা সম্ভব। সেটিই হবে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি," বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সাকি আশা প্রকাশ করেন, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবেন এবং নতুন নেতৃত্বকে সফল করতে সবাই নিজ নিজ দক্ষতা দিয়ে কাজ করবেন।
