লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফরিদপুরের দিপালী
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চরে দিপালীর বাড়ি। অনেক কষ্টে জোগাড় করা টাকা-পয়সা দিয়ে জীবিকার সন্ধানে লেবাননে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সংগ্রামের পথই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল পরিবারের জন্য অসীম শোকের কারণ।
লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ফরিদপুরের দিপালী খাতুন (৩৪)।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরায়েলের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন। ওই সময় তিনি তার নিয়োগকর্তা (কফিল) পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় কফিল পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজন, জেলা প্রশাসন এবং বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিপালী খাতুন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। তার বাবা জীবিত থাকলেও মা তিন থেকে চার বছর আগে বজ্রপাতে মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিপালী ২০১৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে লেবাননে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিনি দেশে এসেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের শুরুরদিকে আবার লেবাননে ফিরে যান।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে শোকের মাতম চলছে। তার বৃদ্ধ বাবা মোফাজ্জেল বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
দিপালীর ছোট বোন লাইজু খাতুন জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার বড় বোন আবার লেবাননে যান এবং একটি বাসায় কাজ করতেন। সর্বশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে তার ফোন ও ইন্টারনেটে আর যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, দিপালী যেখানে থাকতেন, তার পাশের একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা করতেন এবং সেখান থেকেই বিকাশের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে একটি কলের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
দিপালী তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, 'ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা সকালে তাদের বাড়িতে যাই। পরিবারের সবাই শোকে ভেঙে পড়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।'
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কাগজপত্র পেলেই মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
