আবু সাঈদ হত্যা: পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে প্রসিকিউশন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে কি না।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রায় ঘোষণার পর ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমি প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই এনটিভি'র সেই সাংবাদিকের (মঈনুল হক) প্রতি। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার ক্যামেরাম্যানসহ এই ভিডিও ধারণ করার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি সারা দুনিয়ার মানুষ দেখতে পেয়েছিল।'
এ সময় তিনি গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার জন্য অন্যান্য সংবাদকর্মীদেরও প্রশংসা করেন।
রায় নিয়ে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, 'রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনজনের যাবজ্জীবন হয়েছে। আমাদের যে ধরনের চার্জ ছিল তাদের ভূমিকা অনুযায়ী সেই সাজাগুলো হয়েছে বলে মনে হয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'তারপরও আমরা পূর্ণাঙ্গ জাজমেন্ট পাওয়ার পরে সেটা পর্যালোচনা করব। যদি আমাদের কাছে মনে হয় যে, যেসব চার্জ থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।'
বিচারের সফলতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আমরা সন্তুষ্ট বলতে আমরা তো ৩০ জনকে আসামি করেছিলাম। ৩০ জনকেই দণ্ডিত করা হয়েছে। কেউ কিন্তু এ মামলায় খালাস পায়নি। কোয়ান্টাম অব সেন্টেন্স (সাজা) হয়তো কোনোটা কম কোনোটা বেশি মনে হতে পারে, সেটি বিচার্য বিষয়। আমাদের ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হয়তো সেই সেন্টেন্সটা দিয়েছেন।'
এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, 'এখানে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, পুলিশের আইজিপির কিন্তু আরেকটি মামলায় শাস্তি হয়েছে। এই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি কিন্তু সারা বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই কাজ করেছে। সেকেন্ডলি হচ্ছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেখানে যারা সুপিরিয়র অফিসার ছিলেন তাদেরকেও কিন্তু এই মামলায় দণ্ডিত করা হয়েছে। অতএব আমরা কোনোটাই কোনো চার্জই প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছি বলে মনে করি না।'
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেনের কাছে রায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনিও একই অভিমত ব্যক্ত করেন।
এদিকে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, 'আমরা মনে করি এবং দেশের সকল মানুষই মনে করে যে আজকে আমরা যে বিচার পেয়েছি, তাতে মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু পুলিশের যারা রংপুরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাদের সাজা কম হয়েছে—এটা আমাদের মনে হয় এবং ছাত্রলীগ সভাপতি যে পোমেল বড়ুয়া, তার ফাঁসি হওয়া দরকার ছিল।'
