দলকে চাঙ্গা করতে অক্টোবর-নভেম্বরে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা বিএনপির
সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এ লক্ষ্যে শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার পর কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হবে। আয়োজনটি অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি সংগঠন পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। তাদের মতে, দলের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নিতে কাউন্সিল প্রয়োজন। এটি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, সংগঠন আরও সক্রিয় হবে এবং নতুন নেতৃত্বও তৈরি হবে।
বেশিরভাগ সদস্য মনে করেন, কোরবানির ঈদের আগে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। তাই ঈদের পর দ্রুত কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্দিষ্ট মাস নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। সূত্রগুলোর ধারণা, কাউন্সিল অক্টোবর বা নভেম্বরে হতে পারে।
সবশেষ বিএনপির কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। নতুন কাউন্সিলের আগে সংগঠন ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোও দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে।
কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই কাউন্সিল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং কৃষক কার্ডসহ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন সদস্যরা। এগুলো পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সময় নির্বাচনী বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মত দেন তারা।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিছু সদস্য কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।
কোরবানির ঈদের আগে কাউন্সিল সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "আগে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। কয়েক মাস সময় লাগবে।"
বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়। এতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি আগের সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে বলে জানা গেছে। দলটি মনে করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের কাছে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই সনদ বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
জুলাই সনদ নিয়ে রোববার এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "জুলাই সনদে আমরা যে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এটা আমাদের অঙ্গীকার। এ জন্য আমরা ১৫-১৬ বছর লড়াই করেছি।"
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি আবার আলোচনা হবে।
এ ছাড়া দেশে এপ্রিল পর্যন্ত কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে বৈঠকে জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়াল), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়াল), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রায় তিন মাস পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনের পর এটিই ছিল স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক।
