আরব আমিরাতে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে চট্টগ্রামে ফিরলেন ১১ প্রবাসী
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন ১১ জন বাংলাদেশি প্রবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টায় ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঈদের আগে তাদের আটক করে। কয়েকদিন জেল খাটার পর ট্রাভেল পারমিট বা আউটপাস নিয়ে আজ তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যরা তাদের জরুরি সহায়তার জন্য ব্র্যাকের সার্ভিস বুথে পাঠান। সেখানে ৯ জন প্রবাসীকে তাৎক্ষণিক জরুরি অর্থ সহায়তা ও খাবার পানিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রবাস জীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মোহাম্মাদ তসলিম উদ্দীন বলেন, 'আমাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। আকামা ছিল না। কিন্তু জীবন জীবিকার সন্ধানে তো বের হতে হয়। তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে এবং জেল থেকে ফেরত পাঠায়।'
ফিরে আসা আরেকজন প্রবাসী আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দুবাইয়ের জেলে ১০ দিন বন্দী ছিলেন। জেলখানার মানবেতর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, 'জেলে ঠিকমত তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো না। প্রয়োজনীয় ঔষুধ কিংবা জরুরী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো না কর্তৃপক্ষ। ছোট্ট একটা ঘরে অনেকজন করে রাখতো।'
ফেরত আসা কর্মীরা জানান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর অনেকেরই স্থায়ী কোনো কাজ জোটে না। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি বা নিয়োগকর্তারা শুরুতে চুক্তিভিত্তিক কাজ দিলেও পরে পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথিপত্র জব্দ করে ফেলে। পরবর্তীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র না দিয়েই মালিকপক্ষ তাদের সাথে প্রতারণা করে এবং পালিয়ে যায়। একদিকে দেশে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বিদেশে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাজ না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
তারা আরও জানান, এমতাবস্থায় অন্য কোথাও কাজের সন্ধানে বের হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে থাকতে হয়। অনেকে ধরা পড়ে জেলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদেশ-ফেরত এমন অভিবাসীদের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম'-এর আওতায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪ হাজার ৭৫১ জন বিদেশ-ফেরত প্রবাসীকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
