বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ৬ জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমোদন: ইরানের রাষ্ট্রদূত
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি ও এলএনজিবাহী ছয়টি জাহাজের নিরাপদ পারাপারের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি আজ বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছেন।
দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, বাংলাদেশ সরকার জাহাজগুলোর নম্বর এবং অন্যান্য বিবরণ তেহরানে পাঠিয়েছিল এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে জাহাজগুলো শীঘ্রই নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ একটি বন্ধুপ্রতিম ও মুসলিম দেশ এবং এর জনগণ আমাদের ভাইয়ের মতো। ইরান চায় না বাংলাদেশিরা কোনো কষ্টে পড়ুক এবং হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করব।'
এদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে যে তারা ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি, তবে তারা লক্ষ্য করছে যে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালানের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে আসছে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ জ্বালানি বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশগামী ছয়টি জাহাজের একটি বিস্তারিত তালিকা দেয়। এর মধ্যে কাতার থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি চালান এবং সৌদি আরব থেকে একটি অপরিশোধিত তেলের কার্গো রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ টন এলএনজি এবং প্রায় ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে।
ঢাকায় ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশগামী জ্বালানি চালানের সর্বশেষ তথ্য জানতে চাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর আগে ১৫ মার্চ বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে ইরানের সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করে। তখন প্রায় ৩ লাখ টন অপরিশোধিত তেলের তিনটি চালান হরমুজ প্রণালী দিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়ে, যা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৃষ্টি হয়।
এলএনজি কার্গোগুলোর মধ্যে চারটি কাতারএনার্জি এলএনজি থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এগুলো রাস লাফান বন্দর থেকে লোড হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম চালানটি বহন করবে বাহামাসের পতাকাবাহী জাহাজ 'আল আরিশ', যার মোট টন ক্ষমতা ৯৯,১০৬ এবং এটি আগামী ১৪ এপ্রিল লোড হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় কার্গোটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রিসের পতাকাবাহী জাহাজ 'মারান গ্যাস ইফেসোস'-কে, যার মোট টন ক্ষমতা ১,০৩,৯২৮ এবং এর নির্ধারিত লোডিং তারিখ ২২ এপ্রিল।
তৃতীয় এলএনজি কার্গোটি বহন করবে বাহামাসের পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ 'আল মারুনা', যার টন ক্ষমতা ৯৯,১০৬ এবং এটি ২৭ এপ্রিল লোড হওয়ার কথা রয়েছে।
চতুর্থ চালানটি ১০ মে লোড করার কথা রয়েছে যা বাহামাসের পতাকাবাহী 'লুসাইল' জাহাজ দ্বারা পরিবাহিত হবে, যার ধারণক্ষমতা ৯৫,৮২৪ টন।
এছাড়া এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং এলপি আরও ৯৭,৪৯৬ টন এলএনজি সরবরাহ করছে।
এই চালানটি ২ এপ্রিল রাস লাফান বন্দরে লোড হবে এবং গ্রিসের পতাকাবাহী জাহাজ 'আল জাসাসিয়া' এটি পরিবহন করবে।
