স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবকে হত্যা করান স্বামী, গ্রেপ্তার ৫
খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি সাজিদের সঙ্গে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামের ভালো সম্পর্ক ছিল। টিকটক করার সূত্রে তার স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গেও রাকিবের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি সাজিদ। সন্দেহ থেকেই ভাড়াটে খুনি দিয়ে রাকিবকে হত্যা করান তিনি—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ–এর শাহবাগ থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. গোলাম রসুল শিহাব (২১), মো. রাফিন শেখ (২০), শাহারিয়ার নাজিম জয় (২০), মো. সাগর ফকির (২৬) ও মো. সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা (৩৮)।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
তিনি জানান, গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে রাকিবুল ইসলাম তার মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন যুবক তার ওপর হামলা চালায়। তারা পিস্তল দিয়ে পেছন থেকে একাধিক গুলি করে। এরপর রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে লুটিয়ে পড়লে অজ্ঞাতরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় পথচারীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর ওইদিন রাতেই শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জনগণের সহায়তায় মো. গোলাম রসুল শিহাবকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টায় খুলনা জেলার লবনচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রাফিন শেখকে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় খুলনা জেলার লবনচরা থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহারিয়ার নাজিম জয়কে এবং মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. সাগর ফকিরকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৩টায় সিটিটিসির একটি দল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা খুলনা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনি কাজ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট বানাতো রাকিব। তার সঙ্গে জান্নাত মুন নামে এক তরুণীর পরিচয় হয়। পরে সন্দেহ থেকে মুনের স্বামী 'সাজিদের পরিকল্পনাতেই' এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই 'ভাড়াটে খুনি'।
তিনি বলেন, 'মুনের সাথে রাকিবের যে সম্পর্ক, এটা কোন পর্যায়ে গেছে তা মুনের সাথে কথা বললে জানতে পারব। এইটাকে হয়তো বা সাজিদ সন্দেহের চোখে দেখতো। এটা নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ সাজিদ রাকিবকে হুমকি দিয়ে আসছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর মধ্যে চারজন ছিল একেবারে সরাসরি কিলিং মিশনের সাথে জড়িত। যে শুট করেছে তার নাম আলামিন, আলামিনকে আমরা এখনো পর্যন্ত পর্যন্ত ধরতে পারিনি। শিহাব, জয় এবং রাফিন চাপাতি এবং চাকু দিয়ে কোপায়। আর সাগর কোপায়নি, কিন্তু একসাথেই ছিল। আর অস্ত্র যোগান দেওয়া এবং কে কোথায় থাকবে সালাউদ্দিন সেটির সমন্বয় করেছিল।
তিনি আরও বলেন, 'এর সাথে যারা যারা জড়িত আছে, আমরা মোটামুটি আইডেন্টিফাই করেছি। আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। এর বাইরে আরো সাত-আট জন আছে। সবাইকে আস্তে আস্তে ধরে ফেলব। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চারজন সরাসরি থাকে, আর বাদবাকি যারা তারা ব্যাকআপে থাকে।'
